সুমনের গান বিষয়ে নবারুণের কথাবার্তা

::: নবারুণ দা, ‘তোমাকে চাই’ কুড়ি বছর হল। ১৯৯২ সালে ক্যাসেটটি বেরয়। এই সময়টার পরিপ্রেক্ষিতে আপনার মূল্যায়ন কি?

এই ১৯৯২ সালটা ছিল একটা Paradigm Shift’র সময়। তাঁর আগের বছর ১৯৯১, fall of Soviet Union। যে ঘটনাটি এমনই আলোড়ন তৈরি করে যার রেশ এখনও রয়েছে। এরকম একটা সময়ে সমস্ত বামপন্থি Construct টা যখন প্রশ্নের সামনে সেই সময় সুমনের এই গান এবং rather সুমনের এই explosive entry সমগ্র cultural পরিবেশটাকে বিরাট ধাক্কা দেয়। এবং আমি এটাই মনে করি যে artist’র সবচেয়ে বড় কাজ যে মানুষের যে Static Psychological frame সেটাকে disturb করা। সুমন সেটা সাংঘাতিকভাবে করেছেন। He reacted like a conscious artist. এবং তাঁর এই গান ও তার যা অভিঘাত সেটা বাংলা গানের ইতিহাসে চিরদিন লেখা থাকবে। বাংলা আধুনিক গান দীর্ঘদিন ধরে একটা ক্লান্তিকর গড্ডালিকার মধ্যে চলে গিয়েছিলো। সুমন single handedly সেটাকে retrieve করে অর্থাৎ golden heritage টাকে। যেমন আমার মনে আছে, ‘নীল আকাশের নিচে’তে যেখানে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় বা সলিল চৌধুরী যে গান, এইসব গানের মধ্যে যে সাংঘতিক spark ছিল সেটাকে সুমন যেন নতুন করে re-discover করল। এবং এইটাই সুমনের সবচেয়ে বড় credit। শুধু তাঁর Popularity’র জন্য নয়, সুমন হচ্ছেন সেই লোক যাকে সম্ভবত People’s Artist বলা যায়। এটা সমাজতান্ত্রিক দেশ হলে তাকে People’s artist ই বলত। কারণ তিনি মানুষকে সেইরকমভাবেই নাড়া দেন। মানুষের প্রচলিত যা ধ্যানধারণা সেগুলোকে ভেঙ্গে দেন। আমার মানে আছে, আমরা একজন People’s artist কে কলকাতায় শুনেছিলাম। আজেরবাইজান থেকে এসছিলেন, রশিদ বেভুটভ। এই বেভুটভ পৃথিবীর অসংখ্য ভাষায় গান করেছেন। He was the people’s artist of Soviet Union. এবং তার গানের যে ঢঙ যে জোর, সেই জোরটা সুমনের গানে খুঁজে পেলাম আমরা। সুমনকে যে কারণে রাজনৈতিক গানের পথিকৃৎ বলা যায়। অন্যান্য গান আর অন্য সব হিসেব মাথায় রেখেই বলছি। খুবই দুঃখের কথা, যেকোনো জিনিয়াসেরই যা হয়, সুমনের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম কিছু হয়নি। তাকে অনুসরণ করার মত যোগ্য লোক এল কই? বরং সস্তা, ছ্যাবলা রাস্তা বেছে নিল অনেকে। সুমন তাঁর রাস্তা থেকে কিন্তু একটুও সরেননি। এবং তার এই যে focusটা যে focusটা নিয়ে এসেছিল, সেটা তো একবারও ছাড়ল না। তাঁর হাজার রাজনৈতিক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও। এটা আমার কাছে খুব interesting লাগল এবং এই ব্যাপারে সুমনের কাছ থেকে হয়ত আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু বোঝবার আছে।

::: নব্বইয়ের দশকে আপনিও ছোটোগল্পের form থেকে উপন্যাসের form-এ আসছেন। এবং যদি দুটো মুহুর্ত বলা যায়, যেটা বাংলার সংস্কৃতিতে যে ভাটা পড়েছিল তাতে আলোড়ন তুলল, তারমধ্যে একটা যদি হয় ‘তোমাকে চাই’ আরেকটি ‘হারবার্ট’- একটা প্রজন্মকে নতুন করে ভাববার একটা প্রেরণা দিল। এই সময়ে দাঁড়িয়ে যখন আপনি ‘হারবার্ট’ ভাবছেন, ‘হারবার্ট’ লিখছেন, তখন ‘তোমাকে চাই’ শুনলেন। সেই অভিজ্ঞতাটি কেমন?

অভিজ্ঞতা মানে সুমনকে আমার বাড়িতে ক্যাসেটে, যেহেতু তখন ক্যাসেট ছিল, তো ক্যাসেটের মাধ্যমে নিয়ে আসে আমার ছেলে তথাগত। তখনই প্রথম শোনা। সুমন তো আমার বন্ধু। আমি বললাম তথাগতকে ‘দ্যাখ, কিরকম লাগে’। অসম্ভব। সে impact ভাবা যায় না। চিন্তা করা যায় না। এবং আমি এটা মনে করি যে ৬৮-৭২ পশ্চিমবঙ্গের যুব সমাজের সামনে যে Street fighting years ছিল তার রেশটা অর্থাৎ সেই passion টা অনেকের মধ্যে থেকে চলে যায়। কিন্তু আমার মধ্যে থেকে যায়নি। আজও যায়নি। সুমনের তো যায়ইনি। ও Street fighting ছাড়া থাকতে পারে না। এইটাকে বাঁচিয়ে রাখাটা বিস্তর বড় কাজ। এবং এখানেই সুমনের political commitment এবংএখানেই তার engagement শিল্পীসত্তার জায়গা থেকে। এইটাকে আমি খুব honor করি। সে কোন পার্টির হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছে না দাঁড়িয়েছে তার সাথে মেলানো যায় না। যাবেও না। ও শিল্পী এবং committed শিল্পী। এবং আমি মনে করি যে সুমনের মধ্যে Democratic Political Consciousness’র যে রেশ বা ধারা রয়ে গেছে সেটাকেই আমরা একসময় সকলে মিলে share করেছিলাম। কেউ কেউ সেটাকে express করতে পেরেছিল। আমি হয়ত পেরেছিলাম ‘হারবার্ট’ লিখে, সুমন গান করে পেরেছিল। এবং এই যে ব্যাপারটা কিন্তু আরেকটা জিনিসে জানান দিল যে political চেতনা এবং তার বিস্ফোরণ এটা থেমে যাওয়ার জিনিস নয়। Social oppression থাকবে, inverted একটা society থাকবে, সেখানে চাটুকারবৃত্তি দালালি এগুলি থাকবে কিন্তু artist-রা চুপ করে থাকবে এটা কখনও হয় না, হয়ওনি।তাছাড়া, এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য সুমনের গানকে আমরা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে যেকোনো শিল্পীর পাশে রাখতে পারি। যেমন এর বেশ কিছুদিন আগে আমি চিলির শহীদ গায়ক ভিক্তর হারা’র দু’খানা লং প্লেয়িং রেকর্ড ইউরোপ থেকে আনাতে পেরেছিলাম। সেইগানের যে impact আমার ওপর, সেই impactটা দেখলাম আমাদের এখানকার সুমন- আমার বন্ধু সুমন- সৃষ্টি করল। কাজেই এই যে আন্তর্জাতিক গানের যে ঘটনা যেখানে বব ডিলান আছে, যেখানে সাইমন অ্যান্ড গারফানকেল আছে, তাদের থেকে অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ পীট সিগার আছেন, আরও আগে উডি গাথরিয়া আছেন সেই গানের একটা ধারাবাহিকতা এবং সেই গানের পাশে দাঁড়াবার মত কন্ঠ এবং গানের কনটেন্ট এইটা সুমনে এসছে। এসছে বলছি এই কারণে কারণ সে এখনও খুব ভালোভাবে alive and kicking, কাজেই আমার মনে হয় এইটা থাকবে। শুধু যেটা দরকার সুমনের কিছু উত্তরাধিকারী শিল্পীর আসা দরকার সেইটা আমি খুব একটা দেখতে পাচ্ছি না। কারণ আমার মনে হয় তারা একটু সস্তার escape route গুলো বেছে নিচ্ছেন। মানে route ways towards market এটা খুঁজতে বেশি ব্যস্ত।
::: নবারুণদা, আশির দশকে আমরা দেখলাম যে গানবাজনা বলুন বা সাহিত্য বলুন সেখানে ভালো কিছু হচ্ছে না বা Path breaking কিছু হচ্ছে না। আর আপনি বলছেন যে আপনার ক্ষেত্রে এটা সত্যি এবং সুমনের ক্ষেত্রেও এটা সত্যি যে ৬৮-৭২’র street fighting‘র যে অভিজ্ঞতা যা আপনাদের লেখক-কবি-গায়ক করে তুলেছে…

এবং অভিজ্ঞতা মানে যে আমি রাস্তায় গিয়ে পুলিশ ভ্যানে ইট মারছি তা না। ব্যাপারটা হচ্ছে পুরো জিনিসটার সঙ্গে intellectually participate করা। এবং মনে রাখতে হবে যে ৬৮’র ঘটনা যার ওপর তারিক আলি’র অসামান্য বই আছে ‘our street fighting years’ যার ওপর ভিত্তি করে সারা পৃথিবীর youth জেগে উঠেছিল। তো how could we remain silent? সম্ভব না। সম্ভব ছিল না। অসম্ভব। আমার পাশের দেশ শ্রীলঙ্কায় ছাত্র uprising-এ হাজার হাজার ছেলে মারা গেল। আমার এখানে মারা গেছে। ফ্রান্স হোক, জার্মানি হোক, আমেরিকা হোক সর্বত্র লড়াই চলেছে আমি তারই ধারাবাহিকতায় সুমনকে দেখতে চাই। দেখতে পারি। কিন্তু একদম copy book style নয়। west থেকে যেগুলোকে এনে চালু করা হচ্ছে। যার পেছনে আমাদের cultural industry’র একটা বড় ভূমিকা আছে- আজকে সাহিত্যও যার মধ্যে integrated হয়ে গেছে- তারা কখনই এ জিনিস করতে পারবে না। কারণ none of them were heaven stomer। সুমনের একটা দায় ছিল, সে দায়টা তার এখনও আছে। তাই সে এখনও গাইছে মানুষকে নিয়ে। অত্যাচারের বিরুদ্ধে। এবং জীবনের শেষদিন অবধি এই commitment টা থাকবে। কারণ এইটা হারিয়ে গেলে আর কিছুই থাকে না। এটা হারিয়ে গেলে আর কোনো মানেই থাকবে না। এইটা ছাড়া মানুষ হিসেবে তার অস্তিত্বের কোনো অর্থ নেই। কারণ আমি একদম exixtentialism’র term –এ মানুষের authenticity টার ওপর ভীষণ জোর রাখি। সুমনের radicalism টা তাঁর authentic সত্তাটাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এই দুটো কিন্তু একটা আরেকটার পরিপূরক। একটা গেলে আরেকটাও থাকবে না।
::: একটা প্রশ্ন করি, ধরা যাক যদি হারবার্ট সুমনের গান শুনত, তবে কি সে আত্মহত্যা করত? মানে হারবার্ট-র ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে যদি সুমনের গান ঢুকিয়ে দেওয়া যেত…

হ্যাঁ, ও তাজ্জব হয়ে শুনত। কিন্তু হারবার্টের যা মাথার ক্ষমতা তাতে এগানটা তার ভালো লাগলেও এগানটা তার ভেতরে কতটা register করত এটা বলা কঠিন। কারণ এ গানটা শুনলে logically কেউ আত্মহত্যা করতে পারে না। এবং আমি খুব একটা ওর আত্মহত্যাটাকে এভাবেই portray করেছি it was not suicide, it was a murder. It was killing. He was murdered. যে অর্থে ঋত্বিকের মৃত্যুর পর আমার বাবা বলেছিল ঋত্বিককে খুন করা হয়েছে। কেন বলেছিল? আমি তিনটে রাত্তিরের উদাহরণ দিতে পারি। এই তিনরাত্তিরে he was murdered. আমি তিনরাত্তির চাকুলিয়াতে দেখেছি- একটা লোক অবাক হয়ে তাকিয়ে আচে রেলস্টেশনের দিকে। কারণ আমরা যে বাড়িতে থাকতাম তার পাশেই স্টেশন। একটা ট্রেন আসবে। সেই ট্রেন থেকে একটা লোক নামবে। সেই লোকটা ফিল্মের raw stock নিয়ে আসবে। সেইটা আসছে না অতএব ঋত্বিক shoot করতে পারছে না। ঐ তিন রাত্তির যখন অপেক্ষা করছিল he was murdered. এইটাই রিয়াল। এটাই true. বাকি সব বাজে কথা। ফালতু।
::: আপনি একটু আগে বললেন না যে উত্তরাধিকার পাওয়া যাচ্ছে না? ছয় এবং সাতের দশকের পর আটের দশক প্রশ্ন করছে ছয় এবং সাতের দশকের শূণ্যতাটাকে। সুমন কি শুধু গান গাইলেন? সুমন তো একটা পরিমণ্ডল তৈরি করলেন যখন রথ এগিয়ে আসছে এবং রথে আডবানী আসছে, অযোধ্যা হবে।

এবং তার আগে একটা ঘটনা বলেছি ৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন fall করেছে। ফ্রান্সিস ফুকোয়ামা লিখলেন end of history. সেই সময় সুমন re-establish করছে ইতিহাস আছে। এবং সেই history’র সন্ধানেই তোমাকে চাই। সুমনের এই গানটা যে কতলোককে কতভাবে আমাদের এই সমাজে sanity’র বৃত্তে থাকতে সাহায্য করেছে। এটা কেউ জানে না। যেটাকে sober thinking বলে। যেটা সঠিক চিন্তা। মানে affirmative ভাবনা যেটা। যেটা মানুষ share করে। নিয়ে বেঁচে থাকে। সেখানে সুমনের অবদান অবিস্মরণীয়। অবিস্মরণীয়। আমি মনে করতে পারি যে একসময় সুভাষ মুখোপাধ্যায় বা সুকান্ত’র কবিতার যে impact চিল। সেই ধরনের একটা role সুমন play করেছে তার সময়ে। ১৯৯২ তে এই গান গেয়ে। এবং এইটাই major artist রা করে। major artist রা হিসেব কেতাবগুলো পালটে দেয় এসে। এবং তাদের কেউ অনুসরণ করে, কেউ করে না। এভাবেই চলে। সে সাহিত্যের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, চলচ্চিত্রে দেখা গেছে, নানান জায়গায় দেখা গেছে। He questioned the basic grammar- তুমি গান করছ কাকে address করছ? কেন address করছ? এই প্রত্যেকটা প্রশ্ন সে তুলেছিল। এই ‘তোমাকে চাই’ বলতে ও সক্কলকে চেয়েছিল। কারণ তার যে dramaটা এটা নিছক প্রেমের গান নয়। এটা Political Commitment.
::: ছয়-সাত-আট দশকের ব্যর্থতার কথা বললেন আপনি, আমাদের গণনাট্য কি তাহলে ব্যর্থ ছিল?

ব্যর্থ হবে কেন? গণনাট্য তার সময়ে তার কাজ করেছে। It was in the forties. তারপর যেভাবে market forces কাজ করেছে তা ছাড়া শিল্পের আন্দোলনটা তো জিনিয়াসের ওপর নির্ভর করে, আমি চাইলেই একটা ঋত্বিক আজকে আসবেনা। সে তার মত করে তৈরি হচ্ছে যথাসময়ে সে এগোবে। এই অনেকগুলো factor কাজ করে, সেই factor গুলো যখন ঠিকঠিক ভাবে চলে তখন একটা সুমন emmarge করে। সুমন এসছিল মানে সুমন না এলে আর কেউ আসত, সে সুমন হত। এবং ভবিষ্যতেও হবে।
::: সুমন আসার ক্ষেত্রে একটা সুবিধে আছে, প্রাত্যহিক জীবনে আমাদের যে বিস্মৃতির ইতিহাস সুমনের বারবার ইতিহাসে পা রাখবার একটা প্রবণতা দেখা গেছে। একইসঙ্গে ভবিতব্যকে দেখতে চাইছে।

এবং একইসঙ্গে তার international exposure এবং তার অভিজ্ঞতা। পিট সিগারের মত একটা মানুষের পাশে পাঁচ মিনিট কাটালেই জীবনটা পাল্টে যায়। সেই বিরল সুযোগ ওর হয়েছিল। এবং music –এ এই যে কাজ, তারও আগে তার মত করে গৌতম চট্টোপাধ্যায় করেছিল। এদের দুজনেরই আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিচার করলে বোঝা যাবে culture কীভাবে আরেকটা culture কে feed করে। এই যে role টা আমার কাছে খুব interesting লাগে যে একজন theater কর্মী বিদেশ গিয়ে একটা production দেখে তার মাথা ঘুরে যায়। তার হাজারটা avenues খুলে যায়। যেটা সিনেমার ক্ষেত্রে বারবার হয়েছে। আমার মনে আছে। যখন কলকাতায় প্রথম Ivan’s Childhood দেখানো হয় আমাকে ঋত্বিক নিয়ে গিয়েছিল দেখতে। এবং ও ছবিটাকে গিলছিল, তার থেকে আমি বুঝতে পারছিলাম যে এর একটা result হবে। এখানে প্রত্যক্ষভাবে কেউ কারও লেখা মেরে দিচ্ছে বা কাজকর্মের technique মেরে দিচ্ছে তা না, যেটা হচ্ছে একটা aesthetic sensibility. তার মত করে সে imbibe করছে। এবং এক্ষেত্রে সুমন এবং গৌতম এরা কাজটা করেছে। এর proper assessment আরও পরে হবে। বাংলাতে এমনিই প্রতিভা কম, copy cut বেশি। ওরকম artist অনেক থাকবে কিন্তু চাইলেই আমি একটা গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের মহীনের ঘোড়াগুলি পাব না বা কবীর সুমন পাব না। We are very lucky যে আমরা এরকম artist পেয়েছি। এবং এটা আমাদের সম্পদ।
::: এই যে আপনি বললেন influence’র কথা, তো নিজস্ব সংস্কৃতির যে গোড়া, সেই মূলে নব্বইয়ের দশকের নতুন অর্থনীতি ধেয়ে আসছে আর সুমনের গানে ‘কালকেউটের ফণায় নাচছে লখিন্দরের স্মৃতি/বেহুলা কখনও বিধবা হয় না এটা বাংলার রীতি’…

না, এটা তো গানে প্রত্যক্ষ কথায়। সুমন কিন্তু আমাদের traditional গানের যে ইতিবৃত্ত তার সঙ্গে তার পারিবারিক কারণে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তার রক্তে কীর্তন আছে, রবীন্দ্রনাথের গান আছে। নজরুলা আছে, সবকিছু আছে। সে কিন্তু একটা huge musical heritage সঙ্গে নিয়ে এসেছে। এসে সে নতুন সময় নতুন স্বরলিপি দিয়ে খুঁজবে। এবং এইখানেই একটা role থাকে আমাদের শিল্পে বলা হয় পরস্পরা। সুমনকে আমি পরস্পরার বাইরে মনে করি না- পরস্পরার ধারার মধ্যেও কতগুলো break আসে- একটা leap আসে- যেটাকে মেলানো যায় না- সে-ই সুমন- সুমনের পেছনে অনেককিছু আছে। অনেক অনুশীলন আছে, অনেকের দীর্ঘদিনের চর্চা আছে, অনেককিছু আছে। সবকিছু নিয়ে ও এল।
::: শূণ্য আশির দশক! Nineteens কে তবে feed করা গেল? Nineteens অনেক কিছু পেল? গান…

আমি কিন্তু ওভাবে শূণ্য বা ভরাট বলতে পারি না। সবসময়ই কিছু না কিছু কাজ হয়। সবগুলো কাজ equally সামনে আসে না বা প্রকাশিত হয় না। চেষ্টা নিশ্চয়ই ছিল। আশির দশক থেকেই সুমন নিজের মত করে নিজেকে তৈরি করেছে।
::: সুধীরবাবুর কথায় দুজন মানুষকে আশির দশকে ভোলাই যাবে না। বিপুল চক্রবর্তী এবং প্রতুল মুখোপাধ্যায়। আমি সেটাও বলছি না। আমি আরও বৃহত্তর অংশে বলছি। এইরকম তথ্য পাচ্ছি যে ৯০’র মাঝামাঝি অসংখ্য লিটিল ম্যাগাজিন হচ্ছে। বাংলার শহরাঞ্চলে। ৯০’র শেষপ্রান্তে এসে দেখা যাচ্ছে পাড়ায় পাড়ায় বিভিন্ন জায়গায় বিশেষভাবে এইরকম একটু সমৃদ্ধ অঞ্চলে ছেলেপিলেরা band করছে। ঐ হারমোনিয়াম আর তবলা নিয়ে বসে যাওয়া পাঁচটা ছেলেকে আমি চার দশক আগে দেখি…

হ্যাঁ বহুগুলো Paradox হচ্ছে একেকটা art-form একেক সময় Predominate করে। এই সময়টা দেখা যাবে theater’র প্রসারটা কমে যাচ্ছে। কিন্তু এদিকে ব্যান্ডটা আসছে। কারণ এই যে একটা নতুন শব্দ নতুন expression, এই যে guitar as an instrument সেটার কী ভূমিকা বা ঐ Percussion’র কী ভূমিকা এগুলো প্রথাগত যে শিক্ষা-তালিকা যে ক্লান্তিকরতার রেশ আছে। ঐ যে ‘শাপমোচন’ আর ‘চিত্রাঙ্গদা’…
::: শ্যামা শাপমোচনের অশ্রুমোচন-

হ্যাঁ, হারমোনিয়াম আর তবলার বাইরে গিয়ে নতুন শব্দ নতুন expression খোঁজা, এইটাই তো international ভাষা, যে ভাষাটা এখানে আসছে that is very good.
::: আরেকটা খুব interesting জায়গা বলে ফেললেন, লোকগানের মধ্যে হয়েছে ছাদ পেটানোর গান, ধান কাটার গান রয়েছে ধান মাড়ানোর গান, ধানভানার গান। কিন্তু নাগরিক গান, একসাথে বহুমানুষের পথচলার গান নেই। সুমন গান গাইতে এলেন তারপর কানোরিয়া জুট মিল হয়েছে, অসংখ্য movement হয়েছে, নাগরিক একটি বাচ্চার মৃত্যুতে গান হয়েছে, একজন ধর্ষিতা হলে নাগরিক কন্ঠ গেয়ে উঠেছে- এইটাকে কীভাবে দেখছেন? এটা কি নতুন করে এল?

না, শিল্পের আধুনিকতার বড় ধাক্কাগুলো বাইরে থেকে আসে। Urban world থেকেই আসে। সে Socialism ই হোক বা মায়াকভস্কিদের futuristic আন্দোলনই হোক। কাজেই সেভাবেই এটা এসছে। এটা বাইরে থেকে আসতে বাধ্য। কারণ সেখানে সব থেকে advance thinking. এটা বোধহয় কিছুটা মারিগোল্লার গেরিলা ওয়ারফেয়ারের তত্ত্বের মত যেটা totally শহর নির্ভর। সেইখানেই সুমন এসছিল।
::: আরেকটা খুব অদ্ভুত ব্যাপার। রবীন্দ্রনাথ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন করলেন এবং গান লিখলেন। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পরে দেশটা স্বাধীন হল ও নতুন একটা দেশ হল। এবার এপার বাংলার সাংস্কৃতিক জীবনে ওপার বাংলার ভাষা আন্দোলনের গর্জে ওঠার ছায়াপাত খুব একটা দেখা গেল না। বরং মাঝে মধ্যেই সুমনের গান আমাদের অপরাধ কিছুটা কমালো। আমি বলতে চাইছি একটা গান ছিল, ‘বাংলার ধনুকের ছিলায় ছিলায় যত টান/ তীরের ফলায় তবু বিষ নয় লালনের গান’ এ কারণে এটি উল্লেখ্য, এর মাঝের সময়ে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ দুজনে একটি ভাষাই share করে। দুজনের মধ্যে দীর্ঘ ইতিহাস আছে, যেটা ছিল না- সুমনের গান বোধহয় প্রথম যা বাংলাদেশে একই আলোড়ন তৈরি করেছে…

এটা ওখানেও equally নতুন। ওখানেও equally appealing. তার কারণ এখানে indigenous people’s culture টা বাংলাদেশের মত powerful নয়। যদিও আমরা একই বাংলার। তাদের ওখানে গানের যা variety, যেগুলো মুখ্যত দেখা যায় যে ধরনের music নিয়ে ঋত্বিক কাজ করেছেন। যে গান use করেছেন সমস্ত ওখানের। আমরা শুনলে বুঝতে পারি যে আমাদের আব্বাসউদ্দিন নেই। এগুলো বলার কোনো অপেক্ষা রাখে না।
::: বিনয় রায়, হেমাঙ্গ বিশ্বাসের মধ্যে…

না, তারা ওখানকারই লোক। তাদের তো ওখানে এখানে বলে কিছু ছিল না। এই identity মধ্যে নষ্ট হয়ে যায় মধ্যে একদম। Despite ১৯৭১ যখন ঐ বাংলা লড়াই করছে। এই বাংলা মদত দিয়েছে, গুলি বন্দুক দিয়েছে সবই করেছে, everything possible করেছে। এটা কিন্তু বাঙালির সার্বিক মুক্তির লড়াই ছিল ৭১-এ।
::: সেটাই বলতে চাইছি সুমনের গান কিন্তু দু’বাংলাতেই ঢেউটা তুলছে।

সে তো বটেই। আমাদের এখানে যে ক্লান্তিকর ঘেষ্টঘেটাং চলছিল ও বাঙলাতেও চলছিল না তা নয়। এ দুটোই ধাক্কা খেল সুমনের কাছে। এবং ধাক্কা খেয়ে এই নাগরিক গানটা এটা diversion দিল, একটা নতুন politics-এ অভিষিক্ত করল এবং এই রাজনীতিটা না থাকলে কিন্তু সুমনের গান হয় না, হতে পারে না।
::: ১৯৪৫-এ একজন গায়ক ছিলেন যশোদা দুলাল মন্ডল, তিনি গাইছিলেন যে- ‘…একটু থমকে চল ভাই/ এ কলকাতা Socialism কে চায়। Nazism কে চায় না, কুলিমজুর আর হুজুর বলছে না…’ অর্থাৎ নাগরিকজীবনের চাওয়া পাওয়ার যে দাবি, একটিই গানে এ পর্যন্ত পাওয়া গেছে আর পাওয়া যায়নি- এটা যদি ৪৫ সাল হয় তাহলে প্রায় পঞ্চাশ বছরের দূরত্ব। গণনাট্যের গান তো শ্রমিকমজুর নিজের শ্রম লাঘবের জন্য গাইছে না আবার স্নানঘরে বা বেডরুমে আমি আমার একান্তেও সেই গান গাইছি না। এই যে নতুন নব্য মধ্যবিত্তের উঠে আসা, যার একান্তের গানও লাগে-

এবং সুমনের গান একাধারে দুটোই। কেননা অনেকসময় দেখেছি আমি রাস্তা দিয়ে হাঁটছি যদিও ২০০৫-এ একটা সেরিব্রাল স্ট্রোক হয়ে আমি গান গাইতে পারলেও আমার গলা থেকে সুরটা চলে যায়। তবুও আমি আপন মনে যখন কোনো মেলোডি গুনগুন করি বা হেমন্তের কোনো একটা গান গাই বা সুমনের গান, বহুসময় দেখেছি আমি unconsciously গাইছি। অচেতনেই। এটা আমার কাছে খুব মূল্যবান অভিজ্ঞতা কিন্তু। এ গানটা আমার কাছে spontaneously ভেতর থেকে উঠে আসছে যেখানে আমার আশেপাশে কেউ নেই আমি নিজের জন্য গাইছি রাস্তায়।
::: তাহলে তো আমি একটা প্রশ্নের লোভ সামলাতে পারছি না যে দিলীপকুমার রায় বলছেন সঞ্চারী দিয়ে ব্রিটিশ তাড়ানো যেত বা রাখা যেত… বহু বহুকাল পরে সুমনের সমস্ত অনুষ্ঠানেই দিলীপকুমার রায়’কে উঠে আসতে দেখা এবং সে একই কথা সঞ্চারী সঞ্চারী সঞ্চারী। সঞ্চারী এবং গানের যে বাঙালিয়ানা সেটা বস্তুটা সুমন দেয়, সেটা আপনার মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলে?

আমার ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলে জানিনা যেটা ফেলে দ্যাখো, সমস্ত artist’র ক্ষেত্রেই এটা একটা unconscious process. এখানে আমার পেছনে কোথায় হুতম আছে কোথায় বিভূতিভূষণ আছে, ত্রৈলোক্য কোথায় আছে এগুলো কেউ জানে না। সুমন’ও জানেন না। আমার যেমন মনে পড়ছে অপরেশ লাহিড়ীর একটা গান ছিল ‘ঐ যে- ভেঙেছে দমকা ঝড়ে।’ এটা তো totally নতুন ধরনের content বা জটিলেশ্বরবাবুর ঐ গান, সম্ভবত শিবদাসবাবুর লেখা যে ‘এ কোন সকাল’- এই একটা new approach সুমনের মধ্যে রয়েছে এবং এটা এসে তাঁকে আধার করে জিনিসটা explore করেছে। এটা করতই।
::: ধরুন idiom’র কথা বলছেন, ‘পথিক পথ হারাইয়াছ’-

হ্যাঁ, এগুলো কি বলব, এগুলো Punch line, Boom করল একটা ঘুষি knock out করে দিল। এখন এই knock out মারার ক্ষমতা major artist ও লেখকদের থাকে। সুমনের আছে।
::: একধরনের একাকীত্ব যেটা দেবব্রত বিশ্বাসের ব্রাত্যজনে উঠে এসছে, প্রথম সারির শিল্পীরা তার বাড়িতে যাচ্ছেন, সারাদিন প্রণাম করছেন, লোকটা প্রলাপ বকছে tape recorder চালিয়ে কিন্তু কোনো শিল্পী মঞ্চে দাঁড়িয়ে সোচ্চার হচ্ছেন না। আমার বেড়ে ওঠায় সুমন তো icon, আমি কিন্তু সুমনের ক্ষেত্রেও সেটা দেখতে পাই। এই একাকীত্ব। আপনি এঁকে কিভাবে দেখেন। আপনার দ্যাখাটাতো আরও বড়। ঋত্বিকও ঢুকে আসে? নাকি?

ঋত্বিকের সময়েও আমি এটা দেখেছি, জর্জ বিশ্বাসের সময় যেটা ছিল ঋত্বিকের সময় It was very much there। জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র। কী অসামান্য একটা concept করে ছিল বস্তির ছেলেদের নিয়ে একটা orchestra. বাজানো হবে রাস্তার instruments ইট, টিনের কৌটা। He did not get any recognition, nothing. আমার বাবা গিয়ে কোথাও নাটক করতে পারেনি। গাঁজা পার্কের মঞ্চে যে একটা ঘর থাকত ঐ ভিখিরি, drug addict-রা থাকে ওখানে গিয়ে rehearsal দিত। এটাও আমাদের reality, আমরাও আমাদের culture কে murder করিনি। সুমন তার অত্যন্ত দুঃসময়ে ক’জনকে পাশে পেয়েছেন? এটা artist’র একার লড়াই। একাই লড়তে হবে। এ লড়াইটা কেউ লড়ে দেয় না। এবং এ লড়াইটা যে জিততে হবে এমন কোনো ব্যাপার নেই-
::: না, আমি লড়াইটা জেতার কথা বলছি না, আমি বলতে চাইছি যে বনসুতার বাক্য আমরা থাকি ও বাঘ মারি সেইরকম কোনো একটা বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে-

জর্জ বিশ্বাসকে তো তার পাশের শিল্পীরা bitrey করেছে। কারণ তারা তখন more powerful যে establishment তার দিকে যাচ্ছে। বিশ্বভারতীর সাথে বা আনন্দবাজারের সাথে গলা মেলাচ্ছে তারা। এই করতে গিয়ে তারা নিজেরা ডুবল জর্জ যেখানে যাবার ঠিক চলে গেল। এটাও artist’র একটা ব্যাপার। Artist কে ঐভাবে ঢাকা যায় না। আমি মনে করি এটা একজন artist’র পক্ষে bleasing যে তাকে comer করা হচ্ছে। বোম্বাই চাচ্ছে market থেকে একে সরিয়ে দাও। আজকের সুমনের market টাও জানিনা। কিন্তু মনে হয় না সুমনের গুণগ্রাহীর সংখ্যা একটাও কমেছে।
::: আমার বারবার মনে হচ্ছিল, ১৪ নভেম্বর নন্দন থেকে যারা ফিল্ম দেখা ছেড়ে স্বতঃস্ফুর্তভাবে বেরিয়েছিল। তার একটা বড় অংশ যাতে আপনিও আছেন, দল পতাকা নেতা নেত্রী ছাড়া যে নেমে এল তারা সুমনের গান শুনেছে, গুনগুন করে গাইতে পারে। তারও একটা বড় অংশ সোচ্চার গাইতে পারে। তারা ফ্যাতাড়ুকেও চেনে।

একটা artist বেচে ওঠে এই ভাবে। যে মিছিলটার মধ্যে সুমন বেচে থেকেছে। ঐ পুরো আন্দোলনটার মধ্যে সুমন তার প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে তার গানগুলো বেঁধেছে। আজকেও করে। ভবিষ্যতেও করবে। এইটেই তার আসল জেতা। দেবব্রত বিশ্বাসও যেমন জিতে যান। কেউ জানুক না জানুক। দেবব্রত আমাদের পল রবসন বা পল রবসন আমেরিকার দেবব্রত। এই যে জায়গায় তিনি রয়েছেন তা কেউ কাড়তে পারবে না। যেমন সুমনের জায়গাটা, গৌতমের জায়গাটা unique। এঁরা হচ্ছে unique artist। যারা একটা সময়কে এমনভাবে ধাক্কা দেয় যে culture’র ক্লান্তিকর পরিবেশে accepted হয়েই চলা (বিশেষভাবে যখন একটা নাটক যেমন সাম্প্রতিককালে শেক্সপিয়র হিট করায় সকলে সেটাই পুণরাবৃত্ত করে চলেছে, একটা শেক্সপিয়র সাফল্য পেয়েছে তো আরও করা যাক! যারা করছে তাদের গালাগাল করছিনা) এইটাই আসলে Pattern হয়ে দাঁড়ায়। এখানেই একটা লোক এসে অন্য কাজ করে।
::: যুক্তি-তক্কো-গপ্প ভয়ঙ্কর সময়ে দাঁড়িয়ে যেমন বলছিল ভাব, ভাব ভাবা practice কর। কিন্তু তারপর অনেকতা সময় ফাঁকা। সুমন কিন্তু কোথাও সোচ্চারভাবে ভেবেই শুরু করেছেন, বলছেন তোমাকে ভাবাবই ভাবাবও-

ও ভাবনার কাজটা অনেকটা সেরে এসেছে। Ideologically নিজেকে Prepare করেছে। ও নিকারাগুয়া এমনি এমনি যায়নি। বা সারাবিশ্ব এমনি এমনি ঘোরেনি। পীট সিগারের কাছে এমনি যায়নি। ও নিজেকে তৈরি করেছে। এবং সারা পৃথিবীর গানের pulse টা বুঝেছে। কোনটা ঠিক, কোনটা এগিয়ে বা সামনে সেটা ও বুঝতে পেরেছে। বুঝতে পেরেই এসেছে। এবং artist যদি এই level-এ নিজেকে prepare করে it’s a very big thing. কথা সুমনের গানের সম্পর্কে prepare হয়ে কিছু বলা কঠিন। কারণ আমরা এমন একটা জিনিস নিয়ে কথা বলছি! সুমনের গানের ওপরে গুণগ্রাহী শ্রোতারা যারা সামান্য লোক, কেরানি তারা কীভাবে তাদের ভাবনা চালিত করছেন, এই ভাবনাগুলো জানা উচিত।
::: নয়ের দশকের গোড়ায় আডবানীর রথ ছুটছে। অযোধ্যা হচ্ছে, নতুন অর্থনীতি আসছে আমাদের রাজ্যের শাসকদল বিজেপিকে মোকাবিলা করছে, তারও দীর্ঘসময়ের পর দেখা যাচ্ছে পাড়ার মোড়ে শনিমন্দির হচ্ছে যেখানে মে’মাসের বিশেষদিনে লালপতাকা পতপত করে ওড়ে। এই যে সময়, উগ্র ধর্মের বিরুদ্ধে যে লড়াই সেখানে সুমনের গান সালমা খাতুন পুত্রবধূ ইত্যাদি ইত্যাদি, যেখানে দেখা যায় ওপার বাংলার হিন্দু-মুসলমান বিয়ে নিষিদ্ধ হওয়ায় এপার বাংলায় এসে বিয়ে করছে- সেখানে দাঁড়িয়ে গোটা phase-এ ধর্ম/মসনদ নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় ভাবধারাগুলো পাল্টাচ্ছে। এখানে দাঁড়িয়ে কবীর সুমনকে কীভাবে দেখেন? সাংস্কৃতিক ফ্রন্ট্রের কমরেডকে কীভাবে দেখেন?

না, as such তো ফ্রন্ট declared হয়নি। Cultural movement যখন একটা ফ্রন্ট তৈরি করে তখন তো সেখানে শুধু গায়ক থাকে না। সেখানে যে নাচে সেও থাকে। Why our dance has died a death? কে নাচ নেই? শেষ innovative নাচের কাজ সম্ভবত মঞ্জুশ্রী করেছিল। বা রঞ্জাবতী করেছে। অথচ আমাদের এটা শান্তি বর্মনের দেশ। আমরা শম্ভু ভট্টাচার্য মারা গেলে ট্রিবিউট দি। কিন্তু নাচের কি ধারাবাহিকতা আছে! কিস্যু নেই। বাঙালি খুব একটা culturally enriched জাত না। তাতে অনেক মস্ত শিল্পীরা এসেছে কিন্তু কোনো ধারাবাহিকতা তৈরি হয়নি।
::: স্বাধীনতার দীর্ঘ আগে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ভারতবর্ষের যে দুটি মানুষকে চিনতেন তারা হলেন গান্ধি ও উদয়শংকর-

উদয় শংকরের dance form নিয়ে আমি বলবার যোগ্যতা রাখি না। সেখানে folk element’র বিরাট role ছিল। তার সঙ্গে classical মুদ্রা ইত্যাদিও ছিল। সেখানে কোনো নাচের স্কুল নেই। শান্তিলাল, একটা শম্ভু ভট্টাচার্য চেষ্টা করেছেন, তারা তাদের মত করে তারপর কিন্তু নামটা থেকে গেছে in our more conservative areas like South India, Orissa রয়েই গেছে। এখানে তাদের একতা traditional নাচ ছিল। আমাদের কিছু ছিল না। Participatory যে dance expression of solidarity যা গুয়াহাটির লিটিল ম্যাগাজিন মঞ্চে দেখে এলাম তা বাঙালির নেই। বাঙালি ভাসানের সময় একটু কেওড়ামি করে, ব্যাস, that’s all, সে নাচটা নাচ না। বম্বের গনেশ পুজোতেও হয় এই এক। বাঙালি একটা নাচবিহীন জাতি।
::: সেই বাঙালির ভাষায় বাংলা গানকে এ প্রেক্ষাপটে কীভাবে দেখছেন?

বাঙালির musical orchestration বা ensemble’র culture নেই। যা রবিশংকর, তিমিরবরণ চেষ্টা করলেন। তবে এঁরা radio দপ্তরটাকে পেয়েছিলেন। যাদের মাইনে করা musician থাকত। আমার পাড়ার একজন ছিলেন যিনি chello বাজাতেন।এখন যেটা Western school of music-এ ঢুকে গেছে। ভি বালসারা যার বাইরে দাঁড়িয়ে প্রচেষ্টা করেছিলেন। এখন তো anyone can be a musician. Electric music’র দিন এসে গেছে। এখন আর পারকাসন হাত দিয়ে বাজাতেও হয় না। আঙুল দিয়ে বোতাম টিপলেই চলে। তবে sms’র ভাষায় War and Peace বা কমলকুমার হবে না। তার জন্য জটিলবাক্য বা শব্দ দরকার। সেমন ঋত্বিক, culture’র যে preparation তা কিন্তু সাংঘাতিক। সেখানে কি নেই আর কি আছে! ও দিলীপ রায়ের কথা তো বলবেই। ঐ আশ্চর্য গান। যে গানের মধ্যে কী নেই আর কী আছে। ওই তো বলবে। আর কে বলবে।
::: ব্যক্তিজীবনে তবু গান আসে, গান বদলায় বিভিন্ন বয়সে, আপনি যে বয়সে পৌছেছেন সে বয়সে আপনার গানের নির্ভরশীলতা কোন জায়গায়?

অনেকসময় স্মৃতিতে আমি গান শুনি। I imagine that the song is being sung. আমি শুনছি। আমার মাথার মধ্যে melody টা আছে। যেমন হ্যামলেট’র ওফেলিয়ার কম্পোজিশনটা শুনি। এরজন্য এগুলো বাজাবার দরকার পড়ে না। কিন্তু that can inspire me। আমি international শুনি কিন্তু! International বাজালে কেঁদেও ফেলতে পারি। I can die for that. Emotional attachment টা সেই জায়গায় আছে। এবং International বাজলে আমি কিন্তু বুলেট ফুলেট মানব না। সোজা কথা, music একটা লোককে কিন্তু এ জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। Music এই role play করছে। আরও ভয়ঙ্গর role play করছে। নাৎসি ক্যাম্পেও music বাজত। ড্রামস বাজত মানুষকে পুড়িয়ে মারার সময়!
::: আপনার রাজনৈতিক-সামাজিক অবস্থান থেকে সুমনকে কীভাবে দেখেন? গায়ক সুমন না কমরেড সুমন?

Absolutely আমার কমরেড, আজকে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও কাঙাল মালসাটে দাঁড়কাকের role করেছে। আমি লোককে বলতে পারব, ঐ দ্যাখ আমার লেখায় কে করেছে জানিস? I am really proud of him, এই যে আনন্দ, একজন বন্ধু, he is greater friend of mine. সে আমাকে এতটা honor করল! ওতবড় একজন গায়ক আমার লেখা একটা চরিত্রে অভিনয় করছে, এটা ভাবা যায়? এই pride ক’জনের আছে। রবীন্দ্রনাথেরও নেই!
::: সাতের দশক পেরিয়ে আটের দশক এল। তারপর বামপন্থীদের রাজনীতি ভাঙল। তারও পর যে রাজনীতি এত তাতে individual হয়েই সুমনের থাকা। অন্তত ৯০ থেকে যে ফ্রন্টটা ঝাপসা ভাবেই গড়ে উঠছিল, যাকে দেখা যায় না, কিন্তু বোঝা যায় ফ্রন্টটা আছে, তা থেকে কি কোনো আবেদন জানাবেন? ঐ সময়টাকে কোনো আবেদন জানাবেন?

হ্যাঁ, একটা ফ্রন্ট তো আছেই, কিছুটা ফিল্মে- কিছুটা থিয়েটারে- কিছুটা গানে আছে কিছুটা আছে গদ্য রচনায়- কিছুটা কবিতায়। একটা অলিখিত, undeclared ফ্রন্ট আছে, এবং ভবিষ্যতে একটা catalyst আসবে এবং সব শেষ হবে। আমি কোনো ক্লান্তিকর একঘেয়েমিতে বিশ্বাস করি না। Politics যেভাবে চলছে চলবে। আচমকা একটা ধারা আসবে। আসবেই। যেমন একজন বিখ্যাত কমিউনিস্ট লেখক, কবির মতে বিভিন্ন লোককে পায়ে সরষে বা সুড়ুসুড়ি দিলে reaction টা আলাদা হবে কিন্তু চেপে ধরলে reaction টা
::: রজনীকান্ত বলছেন ব্যাক্তি মানুষের মুক্তি কামনা। রবীন্দ্রনাথ বলছেন, আপন হতে বাহির হয়ে বাইরে দাঁড়া। সেখান থেকে আমিও ভন্ড অনেকের মত, এ উচ্চারণে কোন ভন্ডটাকে কীভাবে দেখবেন?

এ ভন্ডামি তো ভর্তি, খারাপ লেখা লিখব, খারাপ গান করব। Only with an eye to the market. Market artist কে নষ্ট করে। Artist ও Market’র সামনে গিয়ে কুকুরবৃত্তি করে। কেন করে? কই ঋত্বিক তো করেনি, বারীন সাহা তো করেনি। বারীন সাহার কি বাইরের ফিল্মে অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করে খাওয়ার যোগ্যতা ছিল না? করতে পারেনি।
::: পরের লাইনগুলো অবশ্য- তবু বলি শোনো দেখতে ভুলো না অন্য ছবিও আঁকো।

হ্যাঁ আর্টিস্ট গুবলেট করবেই আবার সেখান থেকে নিজেকে বের করেও আনবে। আর্টিস্ট কখন কি করবে কেউ জানে না।

সাক্ষাৎকারক:: মানস ঘোষ ও সুমিত দাস
কৃতজ্ঞতাঃ লাল জীপের ডায়েরী

It's only fair to share...Share on FacebookTweet about this on TwitterGoogle+
Website designed and developed by Code Flavor

Facebook

Get the Facebook Likebox Slider Pro for WordPress