দ্বিতীয় কবিতা

গানবাজনা করে খাই
শিখে তবে এসেছি ফিল্ডে
কী-মুশকিল
বেতারশিল্পীও তো ছিলাম অনেকদিন
গ্রামোফোন রেকর্ডফেকর্ডও ছিল।
ঐ সস্তা বারোভাতারি ক্যাসেট না
চাকতি
দস্তুরমতো কলের গান।

ইয়ার্কি না দিনদুপুরে মিডিয়াম ওয়েভ বেতারে বাজত
তোমরা যারা আমায় আজ বুড়ো বলে ডাকো
ভেবো না চিরকাল এমন বেঢপ বেখাপ্পা ছিলাম –
আমল বদলালো।

ভেবেছিলাম পশ্চিম বঙ্গ রাজ্য সঙ্গীত একাডেমিতে
একটু জায়গা জুটবে।
সঙ্গীত ছাড়াও মতবাদমাফিক আবার কিঞ্চিৎ বামপন্থীও
এক সময়ে তো অশোক মিত্র মশায়ের উক্তি নকল করে বলতাম
“I am a communist first, a musician next.”
দ্বিতীয় দফায় জার্মানি থেকে ফিরে বামপন্থীদের কাছাকাছি
Via শুভেন্দু মাইতি। গরম সময়।
এস এফ আই আমায় দিয়ে গান বানিয়ে
গাইয়ে বাজিয়ে রেকর্ড করে বাজারে ছেড়েওছিল
তবে?
একটি পয়সাও পাইনি।
তবে?
কিছু বছর পর আবার এস এফ আই। আবার আমায় দিয়ে
‘রুখে দাও ধর্ম নিয়ে রাজনীতি’
হে মা সরস্বতী ও মা লক্ষ্মী তোমরাই জানো
লেখা সুর গাওয়া বাজানো রেকর্ডিং সব করা তোমাদের এই পুত্রের
সংসারের ভাঁড়ে একটি পয়সাও আসেনি।

কিন্তু একেডেমিতে হ’ল না।
কত লোকের হলো
ও-পাড়ার বিষ্টুতেলি
সে-পাড়ার মিষ্টিখেলি
নে-পাড়ার গণ্যগায়েন
যে-পাড়ার ব্যাঘ্র বায়েন
সবার হলো
শুধু আমার হলো না।
ডাকল না কেউ।

পরিবর্তন এলো। এবারে এক্কেবারে সামনের সারি
দু’দুটো নতুন গানের, অবশ্যই স্বরচিত, এলবাম
‘নন্দীগ্রাম’ ‘প্রতিরোধ’ লেখা-সুর-গাওয়া-বাজানো-রেকর্ডিং
আপিসকাছারিরাইটার্সবিল্ডিংডিং
নিজের পয়সাতেই রেকর্ডিংরেকর্ডিং সব
বদলের জন্য – সব
বদলের জন্য।
বদল এলো।

তিন তিনটে দশক পর
কী আনন্দ কী আনন্দ
মনে মনে ফুরফুরে আশা
দিল হ্যায় ছোটাসা
এইবারে বোধহয় রাজ্য সঙ্গীত একাডেমি
একটু মুড়ি, তিনটি বাতাসা
বারবার লটারি খেলার মতো
হলো না
এবারেও হলো না।

দুই আমলেই ও-পাড়ার বিষ্টুতেলি
আলগোছে জায়গা পেলি
এ-পাড়ার মজুমদার
সে-পাড়ার চোদ্দবার
এন্তার ঢুকে গেল।
ওভাবে কোনওদিন কিছু না পারলাম ঢোকাতে
না পারলাম ঢুকতে।
এবারে অনেকেই চেনজানা। কমরেড-এট-আর্ম্স্।
একই সূত্রে বাঁধিয়াছিলাম চুয়াল্লিশটি মন
তবু
কী ছোট্ট অথচ অমোঘ
তবু।

আসলে সেই ঢাকাইয়া রসিকতার মতো
ছোট ভাই জাকিরের কাছে শোনা –
মজার ছেলেগুলো কি সব বাংলাদেশেই থাকে –
অবাঙালি জামাই অনেক দিন পর শ্বশুরবাড়িতে
শ্বাশুড়িকে দেখেই হতাশ
“আম্মা, আহা, কত্তো সাল বাদ – হায় রে
বাল সব সফেদ, হায় হায়”
এ-কার হাতে মেয়ে দিলাম
মেয়ের সামনে শ্বাশুড়িকে বলে কিনা ইয়ে সব সাদা।
অপমানিত বাঙ্গালি শ্বাশুড়ি সন্ধ্যায় স্বামী সকাশে।
সারাদিন খেটেখুটে ঘরে-ফেরা ক্লান্ত স্বামী বিরক্ত।
“তরই দোষ। তর বহনডাই খারাপ”।
আমারও হয়তো। নয়তো সব পক্ষের নেতারা
আমার সফেদ ইয়েগুলোই বা খালি দেখেন কেন।
বুড়োকে কে চায়।
বামও না ডানও না।

জীবনের দ্বিতীয় কবিতায় আমি গাইছি
আমারই দোষ, আমারই ভুলভাল বহনের এলিজি।
তবে কি আরও সামনের দিকে কিছু আছে
একটু উঁচুতে বসার কিছু –
পঃ বঃ রাজ্য সঙ্গীত একাডেমিতে বার্ধক্যের বারাণসী?
এর পরে কি তেমন কেউ আসবেন
ভরতনাট্যবাস্তুঘুঘুস্বামী
হয়তো নিজেরও বহন-দোষ থাকায়
এই দোষীটার জন্যে একটা টুল রাখবেন তৈরি।
যদি কেউ রাখেন তাই এখনই
হয়তো দেড়শো বছর আগেই
শাসিয়ে রাখছি –
এ-বুড়োর এমন বহন যে অবাঙালি জামাই দেখবে –
(আচ্ছা, মঙ্গলগ্রহে সাদাকে আর চুলকে কী যেন বলে …)

কবীর সুমন। ৪, ২, ২০১৫

It's only fair to share...Share on FacebookTweet about this on TwitterGoogle+
Website designed and developed by Code Flavor

Facebook

Get the Facebook Likebox Slider Pro for WordPress