জাতিস্বরলিপি

আমার আর বেশি দিন নেই

শীতের সেই বিকেলে কবীর, শ্রীকান্ত, রূপঙ্কর, ইন্দ্রদীপ, সিধু, অনুপম-কে নিয়ে বাংলা গানের পেয়ালায় তুফান। সাক্ষী সুমন দে

যে ছবির ট্যাগলাইন আ মিউজিক অব মেমোরিজ, তাতে সঙ্গীত পরিচালকের দায়িত্ব সামলানোর কথা কতটা থেকে যাবে কবীর সুমনের স্মৃতিতে?

কবীর: এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং কাজ। আমি যে পরিমাণ রিটেক করিয়েছি আর শিল্পীদের খাটিয়ে মেরেছি কঠোর টাস্কমাস্টার হিসেবে, তাতে তাঁদের জামাকাপড় খোলাটাই যা বাকি ছিল। অ্যান্ড আই অ্যাম নট অ্যাট অল স্যরি ফর দ্যাট। কিন্তু আজ কাকে গিয়ে শোনাব? আমার গুরুরা আজ নেই। আচার্য জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ নেই। সলিল চৌধুরী নেই। ধনঞ্জয়বাবু নেই। আমার বাবা নেই। নচিকেতা ঘোষ নেই। কেউ নেই যাকে একটু প্রণাম করে কাজটা শুনতে বলব। এ যে কত বড় কষ্ট!

অনেকেই মনে করছেন ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ ১৯৬৭-র সুনীল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিটার রিমেক আর উত্তমকুমারের ভূমিকায় এ বার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সে ক্ষেত্রে সুরকার হিসেবে অনিল বাগচির সঙ্গে কবীর সুমনের তুলনা বাঙালি করবেই।
কবীর: মূর্খ বাঙালি, বেরসিক-স্টুপিড বাঙালি। আগে এগুলো বলতাম না, এখন বলছি। ছ’টা রিপুর মধ্যে ঈর্ষাটাই যা বাঙালির আছে। সেই অসূয়ার কারণে বাঙালি এটাই ভাবে। ইন্টারনেটে গিয়ে আগের ছবিটা মিলিয়ে দেখতেও পারে। আগের ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’তে কবিগান মোটেই প্রাধান্য পায়নি। গুরুত্ব পেয়েছিল ‘আমি যে জলসাঘরে’, ‘আমি যামিনী তুমি শশী হে’র মতো আধুনিক বাংলা গান। কিছুটা সাবেকি আঙ্গিকে লেখা। সৃজিতের ছবিতে দেখা যাবে অ্যান্টনি, ভোলা ময়রা, যজ্ঞেশ্বরী, রাম বসু, ঠাকুর সিংহ, হরু ঠাকুরের তেরোটি কবিগান।

সে তো আম বাঙালি জানেই না খেউড় আর লহড়ের বাইরেও কবিগান হয়। আমি যদি বলি তুমি গানের প্রত্নতাত্ত্বিকের কাজটাও করেছ?

কবীর: মূলত সৃজিত আর কিছুটা আমি মিলে টেক্সটগুলো বাছি। তার পর আমার প্রধান কাজ ছিল তেরোটা কবিয়ালের গানে সুর করা, সুর করে গাওয়ানো। কোথাও টেক্সট না থাকলে, উহ্য থাকলে পদ পূরণ করা। আসলে কবিয়াল গানে কী রকম সুর ছিল, কী তাল ছিল, কী যন্ত্র বাজত তা কেউ লিখে যাননি। টেক্সট-এও ধরা যাক, অ্যান্টনি লিখেছেন, “এই বাংলায় বাঙালির বেশে আনন্দতে আছি/ হয়ে ঠাকরে সিংহের বাপের জামাই কুর্তি-টুপি ছেড়েছি।” এর পর সংকলকরা আর কিছু লিখে যাননি। আমি যোগ করেছি, “শ্বশুরবাড়ি বাপের বাড়ি, একই পোশাক একই বেশ/ এই দেশেরই ছেলে আমি, ফিরিঙ্গিরও বাংলাদেশ।” আর এই সঙ্গীত পরিচালনার গোটা কাজটাতে আমি যাঁর কাছে সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ, তিনি ইন্দ্রদীপ। গোড়াতেই উনি বলেছিলেন, ‘সুমনদা, আমি আপনার অ্যারেঞ্জার নই। আমি আপনার সহকারী।’ অ্যান্ড দেয়ার লাইজ দ্য জিনিয়াস অব ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত।

আমার তো মনে হয় ‘দ্য জিনিয়াস অব ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত’ ইজ হাউ হি ম্যানেজড কবীর সুমন। এই বদমেজাজি সুমনকে ছবির কাজ করাতে ঠিক কতটা ঘাম ঝরাতে হয়েছে?

ইন্দ্রদীপ: না, আমাকে বিশেষ ঘাম ঝরাতে হয়নি। এটা আমার কাছে একটা সুযোগ ছিল যাঁর গান শুনে বড় হওয়া, তাঁর সঙ্গে কাজ করার…

কিন্তু ইন্ডিপেন্ডেট মিউজিক ডিরেক্টর হিসেবে এতগুলো কাজ করার পর সহকারী হিসেবে কাজ করতে আপনার ইগোয় ধাক্কা লাগেনি?

ইন্দ্রদীপ: যাঁকে আমি বড় মনে করি, তাঁর সঙ্গে কাজ করলেও সহকারী। না করলেও সহকারী। আমি প্রথম থেকেই সারেন্ডার করে দিয়েছি। আর সারপ্রাইজিংলি উনি আমাকে একবারও বকেননি কেন জানি না। যেহেতু আমি ওঁর থেকে অনেক বেশি কাজ করি, আমি জানি হাউ টু মেক পিপল ওয়ার্ক। আমার কাছে জিনিসটা অনেক বেশি ইন কন্ট্রোল। আমার কাজ ছিল উনি যেটা চাইছেন সেটা এক্সিকিউট করে দেওয়া। ছোট করে বললে ওঁর ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছি আমি। মিউজিকের ব্যাপারটা শুরু থেকে শেষ অবধি ওঁর।

কবীর: এটা ও বিনয় করে বলছে। আর ইন্দ্রদীপ সেই মাপের শিল্পী বলেই ওর বিনয় সাজে।

অনিল বাগচির সঙ্গে যদি কবীর সুমনের সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে তুলনা অবধারিত হয়, তবে বাজি রেখে বলা যায় শ্রীকান্ত আচার্যর সঙ্গে মান্না দে’র তুলনাটাও আসবে। বিশেষ করে ১৯৬৭-র ছবির গানগুলো যখন এই ২০১৪-তেও যথেষ্ট জনপ্রিয়। চ্যালেঞ্জ তো?

শ্রীকান্ত: তুলনা অবশ্যই চলে আসবে। সত্যি কথা বলতে, আমার কিছু বলা সাজে না। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। সুমনদা যে রকম দেখিয়েছেন, আমি সেই ভাবে আমার সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছি। বাকিটা কিন্তু শ্রোতাদের কাছে। আমার এ বিষয়ে আর কিছু বলার অধিকার আছে বলেই মনে করি না। আমি জানি, মান্নাদা কী করেছিলেন। আমি জানি, আমি কী করেছি, বাকি শ্রোতারাই বিচার করবেন।

কিন্তু তুলনাটা কি বিড়ম্বনায় ফেলবে?

শ্রীকান্ত: ফেলতে পারে। মানুষের জীবনে তো কত রকম বিড়ম্বনাই আসে। সে রকমই আর একটা এলই না হয়।
কবীর: শোনো, আমি বলছি, ওঁদের চেয়ে ভাল কাজ করেছি আমরা সোজা কথা।
অনিল বাগচির সঙ্গে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তাই উনি আমার একজন গুরু। কিন্তু আমি সবিনয় বলব, আমরা ওঁদের চেয়ে ভাল কাজ করতে পেরেছি।

কিন্তু এ ছবিতে তো অভিনেতা শ্রীকান্তের অভিষেকও হল। অ্যান্টনি ফিরিঙ্গির ভূমিকায় প্রসেনজিতের লিপে সংলাপগুলো তো আপনার ডাব করা।

শ্রীকান্ত: বছর চারেক আগে কুণাল মিত্রর হঠাৎ মৃত্যুর পর একটা অসম্পূর্ণ ছবিতে কুণালের কণ্ঠস্বর আমি ডাব করি। আসলে অভিনয় জিনিসটা আমার ভাল লাগে। মাঝে মাঝে শ্রুতিনাটক ধরনের অডিয়ো অ্যাক্টিং আমি করেও থাকি। ‘জাতিস্মর’-য়ে অবশ্য অ্যান্টনির দু’টো পর্তুগিজ সংলাপ ছিল, যেগুলো বলতে গিয়ে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তবু আমি চেষ্টা করেছি।

রূপঙ্কর, আপনার চ্যালেঞ্জটাও তো কম ছিল না। স্টেজে আমরা বহু বার ‘এ তুমি কেমন তুমি’ গাইতে শুনেছি কবীরদাকে। যে গানের সারা শরীরে একটা লোকের লিরিক্স বা গায়কির সিগনেচার সাঁটা, সেই গানটা আরেক জন গাইলে কতটা স্বকীয় হওয়া যায়?

রূপঙ্কর: চ্যালেঞ্জ ভাবিনি। পনেরো-ষোলো বছর ধরে গান গাওয়ার পর যখন শুনলাম কবীর সুমনের কথায়-সুরে দু’টো গান গাইতে হবে, সেটাই আমার কাছে বিশাল পাওনা। সুমনদা বকেছেন, উচ্চারণ সংশোধন করে দিয়েছেন, গায়কিতে বাড়তি আবেগ সংযত করেছেন। দু’টি গানের রেকর্ডিংয়ে যা যা শিখেছি, তা দিয়েই ভবিষ্যতে অনেকগুলো বছর কাটিয়ে দিতে পারব।

ও সব ভাল ভাল কথা ছাড়ুন। রান্নাঘরের গল্পটা বলুন। ‘সহসা এলে কি’ আর ‘এ তুমি কেমন তুমি’ গাইছেন, গালিগালাজ খাননি? বিশ্বাস করতে হবে?

রূপঙ্কর: না না, গালিগালাজ সে রকম ভাবে আমায় খেতে হয়নি (হাসি)।

কবীর: তবে প্রতি পদক্ষেপেই সংশোধন করতে হয়েছে। কিন্তু এটাও বলি, আমার এটা নিশ্চিত ধারণা যে তালাত মাহমুদের পর রূপঙ্করের মতো ভয়েস আমাদের এই ইন্ডাস্ট্রিতে আর আসেনি। কিন্তু ওঁদের তো কেউ দেখিয়ে দেননি। যে তালিমটা আমার পাওয়ার সুযোগ হয়েছে, আমার থেকে আরও অনেক বছর পর পৃথিবীতে আসায় ওঁদের সে সুযোগ হয়নি। ওঁরা এমন একটা সময়ে গান গাইছেন, যখন মুড়ি-মিছরি সব এক!

শ্রীকান্ত: এই ট্রেনিংটা কবীরদার কাছে পাই বলেই লাঠি-ঝাঁটাটা খেতে পারি।

কবীরদা, রূপঙ্কর তোমার গানগুলো যখন গাইছেন, তোমার মধ্যে গায়ক সত্তাটা নিজের গায়কির সঙ্গে কোথাও মেলাচ্ছে না?

কবীর: মেলাতে বাধ্য…
ধরো, এন্ড প্রোডাক্ট যা হল, লোকে বলল ‘আহা রূপঙ্কর কী গেয়েছে! কবীর সুমনের থেকেও ভাল।’ কেমন লাগবে?
কবীর: আমি তো তাতে সব চেয়ে আনন্দ পাব। সম্ভবত মানুষ রূপঙ্করকে অনেক দিন মনে রাখবে ‘এ তুমি কেমন তুমি’ গানটার জন্য। কিন্তু আমি স্ট্রেট ব্যাটে খেলা লোক। আজ তোমায় বলি সুমন, আমি গানটা দিতে চাইনি। কারণ যে এটা গাইবে, তার বিপদ হবে। ওয়েবসাইটে গেলে লোকে আমার গানটা শুনতে পাবে। তুলনা আসবে না? বড় বিপদ! বাট সৃজিত ইনসিস্টেড।

সে তো তুমি সঙ্গীত পরিচালনার কাজটাই নিতে চাওনি। সৃজিতই আমাকে বলেছেন, বারবার কাটিয়ে দিতে চেয়েছ। কাজটা করবে না বলেই পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলে।

কবীর: ভেবেছিলাম পাঁচ লাখ টাকা বললে ওরা ভয় পেয়ে যাবে। পাবে না জানলে পঁয়ত্রিশ লক্ষ টাকা চাইতাম। তবে এই কাজটা আমি ছাড়া আর কেউ পারত না। কারও পিতৃপুরুষের ক্ষমতা হত না এই সুর করা।

অনুপম-সৃজিত-প্রসেনজিতের জুটিটায় বেশি প্রচারের আলো পড়ে বটে, তবে আসল জুটি সৃজিত-অনুপমেরই। তাই অ্যালবামে ইতিমধ্যে বেরিয়ে যাওয়া আপনার পুরনো ‘ফাঁকা ফ্রেম’ গানটাকে সৃজিত ছবিতে রেখেছেন। ছবির প্রয়োজনে নয়, বন্ধুকৃত্যে রেখেছেন?

অনুপম: এটা সৃজিতদাই ভাল বলতে পারবে। ২০০৮-য়ে বেঙ্গালুরুতে বসে গানটা লেখা। আসলে গানটার একটা অংশ আছে ‘দেড়শো বছর আগেও আমি/ তোমায় চেয়ে গান লিখেছি/ পুকুর ধারে জলের গন্ধে/ বাংলা ভাষায় চোখ ধুয়েছি’। এই শব্দগুলো নিশ্চয়ই সৃজিতদার মাথায় কাজ করেছিল, ছবিটার সঙ্গে কোথাও একটা কানেকশন পেয়েছিল। হয়তো চিত্রনাট্যেও সেটা এসে গিয়েছে।

তাই ‘জাতিস্মর’-য়ে ‘ফাঁকা ফ্রেম’ গানটা ব্যবহারের কিছু যৌক্তিকতাও আছে।

বেশ, বুঝলাম নিছক বন্ধুকৃত্য নয়। কিন্তু আপনারা যাঁরা ছবিটার বর্তমান অংশের গানের সঙ্গে যুক্ত সিধু-সাকি-আপনি, এই যে কবিয়ালের গান নিয়ে রিসার্চ, বাংলা গানের প্রত্নতাত্ত্বিক খোঁড়াখুড়ি, তাকে সমকালীনতায় মেশানো, অ্যান্টনি ফিরিঙ্গিকে ঘিরে মিথ, কবীর সুমনের সঙ্গীত পরিচালনা এই বিষয়টায় আপনাদের সৃষ্টি, আপনাদের চেষ্টা, আপনাদের গানটা চাপা পড়ে যাবে না তো?

সিধু: জাতিস্মর মানে পূর্বজন্মের পাশাপাশি একটা বর্তমান জন্মও রয়েছে। আমাদের গান এসেছে সেই বর্তমান জন্মটাকে, সময়টাকে ধরার জন্য। আমাদের পার্টটা অবশ্য খুব ছোট। অনুপম, গানের সঙ্গে ছবিটার অন্য দিক রয়েছে। যেখানে সুমনদা রয়েছে, এত বড় একটা প্রজেক্ট… এটুকু বলতে পারি, আমরা একেবারে আমাদের মতো করে আমাদের মিউজিক্যাল ধারাতেই ভালবেসে, অনেস্টলি, প্যাশনেটলি চেষ্টা করেছি।

সাকি, তুলনা তো একটা হবে। কবিগান, সুমনের কথায় আধুনিক বাংলা গান তার সঙ্গে আপনাদের গানের। কেউ নাক সিঁটকে বলতেই পারেন- ‘ইস্, কীসের পর কী!’

সাকি: গল্পের দাবি অনুযায়ী এটা তো একটা ব্যান্ড কম্পিটিশন। রকব্যান্ড কম্পিটিশনে যে ধরনের গান হয়, সেই রকমই হয়েছে। বিয়েবাড়িতে পাঁপড়টাও তো মেনুতে থাকে। আমাদের গান দু’টোও পাশে থাক না।

অনুপম: তুলনা তো আসবেই। এটা সত্যি কথা, অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু সৃজিতদার পছন্দের যে ক’টা গান আছে ছবিতে, সে জায়গায় আমার গানও আছে। আমার আর এর থেকে বেশি বলার কী থাকতে পারে?

সিধু: আমাদের গানগুলো কিন্তু একটা জায়গায় ফিল্মটার বড় স্ট্রেংথ। খুব স্ট্রং পয়েন্ট। কারণ এখনকার একদম ইয়ং ক্রাউড, মানে কলেজ পড়ুয়াদের সঙ্গে আমাদের প্রাথমিক যোগসূত্র কিন্তু আমাদের গানই।

আমি জানি কবীরদা জাতিস্মর-য়ে বিশ্বাস করে। জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী।

কবীর: আমি ঈশ্বরবিশ্বাসী নই। কিন্তু আমি সত্যি সত্যি জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী, সে তোমরা যত হাসাহাসিই করো। যদি বলো, কেন হলেন? আমি বলব, আমার মনে হয়েছে, কী করি বলো তো? আমি তো এই বিশ্বাসের জন্য কারও কোনও ক্ষতি করছি না।

বেশ (হাসি)।
ধরে নিন, কবীরদার মতো আপনারা সবাই জন্মান্তরবাদে বিশ্বাস করেন। জাতিস্মর হয়ে পরের জন্মে আপনাদের পূর্বজন্মের এই ফিল্মটার সঙ্গীতের অংশের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতাটা মনে পড়ল। এক লাইনে কী ভাবে এই কাজটাকে ব্যাখ্যা করবেন পরের জন্মে?

সিধু: এত কাছাকাছি এসেও আল্টিমেটলি সুমনদার অধীনে, ইন্দ্রদীপের সাহচর্যে কাজটা করতে পারলাম না। খুব কাছে এলাম, বাট নট দ্যাট নিয়ার।

সাকি: ইস্ যদি ‘খোদার কসম জান’ গানটা আমি গাইতে পারতাম। লোভ থাকবে।

রূপঙ্কর: বারবার এই রকম কাজ সে জন্মেও করতে চাইব। তবেই বাংলা গান গাওয়া সার্থক হবে।

অনুপম: অবাক এবং খুশি হব, যে আমার গানও ‘জাতিস্মর’য়ে স্থান পেয়েছিল। ওটাই ভাগ্যে লেখা ছিল বোধ হয়।
শ্রীকান্ত: এ বারের ভুলগুলো কমাতে পেরেছি কি না তার হিসেব নেব। ২০১৩-র মতো ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়ার সুযোগ আর সুমনদাকে দেব না।

ইন্দ্রদীপ: পরের জন্মেও শেখার চেষ্টা করে যাব এই কাজটা থেকে। শেখার কোনও শেষ নেই, কোনও বিকল্পও নেই। যত বার জন্মাব কেবল শিখে যাব।

কবীর: পরের জন্মে মনে হবে এ রকম একটা সন্ধে এসেছিল আমার জীবনে, আমার পঁয়ষট্টি বছর বয়সে, আমার আর বেশি দিন নেই। আমাদের অন্যতমা সহকর্মী শ্রমণা চক্রবর্তী যিনি যজ্ঞেশ্বরীর গানটা বড় অনবদ্য গেয়েছেন, তিনি এই আড্ডায় ছিলেন না আমার এ দুঃখ পরজন্মেও থাকবে।
আড্ডা ভঙ্গ হোক। তবে এখনকার মতো, এ জন্মের মতো নয় কিন্তু (হাসি)।

সৌজন্যেঃ-
আনন্দবাজার পত্রিকা, বুধবার ১৫ জানুয়ারি ২০১৪

It's only fair to share...Share on FacebookTweet about this on TwitterGoogle+
Website designed and developed by Code Flavor

Facebook

Get the Facebook Likebox Slider Pro for WordPress