কবির সুমনের দৃষ্টিতে ভারতের লোকসভা নির্বাচন

২৫ মে (রেডিও তেহরান): অর্থনৈতিকভাবে ভারতের ভাগ্যাকাশটা খুব একটা সুবিধার নয়। তাছাড়া দারিদ্র্য ক্রমশ বেড়ে চলেছে। আমার মনে হয় যে এটা একটা মারাত্মক অস্থিরতা তৈরি করেছে সাধারণ ভারতীয়দের মধ্যে। আর সেই অস্থিরতার মধ্যে খড়কুটো আঁকড়ে ধরে অর্থনৈতিক সংকট থেকে মুক্তির জন্য জনগণ বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। কারণ কংগ্রেস পারেনি এবং বামপন্থীরা এ ব্যাপারে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

রেডিও তেহরানের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন বিশিষ্ট সংগীতকার, শিল্পী, সাংবাদিক এবং সাবেক বিধায়ক কবির সুমন।

বিজেপির অনুপ্রবেশকারী ইস্যুটির কোনো সারবত্তা নেই বলে মন্তব্য করেন কবির সুমন। তিনি বলেন,বিজেপি যদি সাম্প্রদায়িকতার নজির রাখতে শুরু করে তাহলে তাদের কপালে দুঃখ আছে। আজ আবার বিজেপি ক্ষমতায় ফিরেছে ধর্মের সহায় হিসেবে কিন্তু নয়। তারা ক্ষমতায় এসেছেন অর্থনীতির ওপর ভর করে। কংগ্রেসের ভুল নীতির কারণেই তাদের ভরাডুবি হয়েছে এবং বিজেপি নিরঙ্কুশভাবে জয়লাভ করেছে।

বিজেপি এখনই বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের সঙ্গে কিছু ঝামেলা পাকাবে বা ঝামেলার জায়গাতে যাবে বলে মনে করেন না কবির সুমন।

পুরো সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো

রেডিও তেহরান: ভারতের ১৬তম লোকসভা নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বিজেপির এই নিরঙ্কুশ বিজয়ের কারণ কি? পক্ষান্তরে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটের শোচনীয় পরাজয়েরই বা কারণ কি?

কবির সুমন: দেখুন আমি খুব বিশারদ নই। তবে কংগ্রেসের পরাজয়ের কারণ হিসেবে অল্প কথায় যেটি বলা যায় সেটি হচ্ছে, কংগ্রেস বড় বেশি কৌলিন্যের দিকে ঝুকে পড়েছিল। ধরা যাক- শ্রী রাহুল গান্ধী একজন তরুণ রাজনীতিবিদ। তার অবশ্যই ভবিষ্যত আছে। তাকে প্রধানমন্ত্রী বানানো হবেই হবে এই গো ধরে বসল কংগ্রেস। কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তকে দেশের লোক ভালভাবে নেয়নি। কংগ্রেসের সেই দিন চলে গেছে। যেহেতু শ্রী রাহুল গান্ধী একটি একটি বিশেষ পরিবারের সন্তান সে কারণে তাকেই প্রধানমন্ত্রী হতে হবে এটা ঠিক বলে আমার মনে হয় না।

ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের প্রতি আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। কংগ্রেস একটি অসাম্প্রদায়িক দল। অথচ খুবই দুঃখের যে তাদের ভোটের ফলাফল এতটা খারাপ! আবার কেউ কেউ বলবেন তাদের কেলেঙ্কারীর জন্যই ভোটে ভরাডুবি হয়েছে। কিন্তু ভারতের রাজনীতিতে আমি দেখলাম কেলেঙ্কারী সবারই আছেন। শুধু কংগ্রেস বলে কথা নয়; সবারই কেলেঙ্কারী আছে। ক্ষমতায় যারা থাকবেন তাদের কোনো না কোনো জায়গায় কেলেঙ্কারী আছে। কাজেই ভোটে তাদের ভরাডুবির সেটাই একমাত্র কারণ নয়।

আরেকটি বিষয় রয়েছে। সেটি হচ্ছে কংগ্রেস দীর্ঘদিন শাসন ক্ষমতায় ছিল। আর দীর্ঘদিন যারা শাসন ক্ষমতায় থাকে তাদের দিক থেকে জনগণের মন একটু অন্য দিকে চলে যায়। একটা এন্টি ইনকামবেনসিভ প্রবণতা সৃষ্টি হয়। আর সেই ফ্যাক্টরটাও এবারের লোকসভা নির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেস এবং ইউপিএ জোটের ক্ষেত্রে কাজ করেছে।

এবারে আসা যাক বিজেপির উত্থানের বিষয়ে। ভারতের প্রধান সমস্যা হচ্ছে- ভারত একটি মস্তবড় দেশ। তার অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ভারত তো কিছু তৈরী করে না। ভারতের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ভারতের বহু কারিগরী সম্ভাবনা ছিল। তারপরও তারা কারিগরী ক্ষেত্রে তেমন কোনো দাগ কাটতে পারে নি। কাজেই এদিক থেকে বলা যায় ভারত পুঁজি তৈরি করে না। আর সে হিসেবে অর্থনৈতিকভাবে ভারতের ভাগ্যাকাশটা খুব একটা সুবিধার নয়।

তাছাড়া দারিদ্র্য ক্রমশ বেড়ে চলেছে। একটি পরিসংখ্যনে বলা হয়েছে শতকরা ৭৮ জন ভারতীয় মাথাপিছু প্রতিদিন ২০ টাকাও খরচ করতে পারেন না। অর্থাৎ তারা ক্ষুধা নিয়েই দিন শুরু করে এবং ক্ষুধা নিয়েই ঘুমাতে যায়। এটি অত্যন্ত চিন্তার কথা। আমার মনে হয় যে এটা একটা মারাত্মক অস্থিরতা তৈরি করেছে সাধারণ ভারতীয়দের মধ্যে।

আর বিজেপির চেয়ে আমার মনে হয় নরেন্দ্র মোদিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ভারতের গণমাধ্যমগুলো নরেন্দ্র মোদিকে আগের থেকেই প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন এভাবে ঢাক পেটানো শুরু করেছিল। গণমাধ্যমগুলো কেন এমনটি করল সেটি ঠিক আমার কাছে স্পষ্ট নয়। আর গণমাধ্যমের এই প্রচারণাও সাধারণ মানুষের মনে একটা দাগ কেটেছে।

এছাড়া ভারতের তরুণ সমাজ খুবই দিশাহীন। তাদের ধারণা নরেন্দ্র মোদি তো বেশ একটা ডায়নামিক লোক। তার নেতৃত্বে গুজরাটে অনেক উন্নতি হয়েছে। অতএব নরেন্দ্র মোদী যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে বর্তমান সংকটের বোধহয় একটা সমাধান হতে পারে।

একটা বিষয় খুব লক্ষ্য করার আছে। ভোটের আগেই আমি শুনছিলাম বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ নিয়ে নানা কথা বলা হয়েছিল।আর এ ইস্যুতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বিজেপি জিতবে এমনটি ধারণা করা হয়েছিল। অথচ তা কিন্তু হয় নি। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেই তথাকথিত বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীরা এসে বসত গাড়ছে। তারা তো অনেক দূর যাচ্ছে না অনুপ্রবেশকারীরা সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে হয়তো বসত গাড়ছেন বলে তারা দাবি করছে। কিন্তু এই অনুপ্রবেশকারী নিয়ে তারা যে ঢাকা ঢোল পিটিয়েছে তার ফল কিন্তু সেরকমভাবে দেখা যাচ্ছে না। এই ইস্যু নিয়ে সীমান্ত এলাকায় বিজেপি মোটেও সুবিধা করতে পারেনি। অর্থাৎ বিজেপির এই অনুপ্রবেশকারী ইস্যুটির কোনো সারবত্তা নেই।

রেডিও তেহরান: বিজেপির সাফল্যের প্রতিক্রিয়ায় অনেকে এমন বলছেন যে, এটি ভারতে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ অবসানের প্রথম পদক্ষেপ। এ কথা কতটা যৌক্তিক?

কবির সুমন: দেখুন বিজেপির ম্যান্ডেটা আসলে এখানে ছিল না। ধরুন সাম্প্রদায়িতকতার একটা কুৎসিত হাওয়া ভারতে বরাবরই ছিল। বলা চলে সাম্প্রদায়িকতার একটা পরিমণ্ডল ভারতেও আছে এবং বাংলাদেশেও আছে। পান থেকে একটু চুন খসলেই সাম্প্রদায়িক শক্তি বা অপশক্তিদের দাঁত নখ সব বেরিয়ে পড়ে। আর তখন সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হন; তারা বিপন্ন হন। ভারতে দলিত শ্রেণী বড়ই বিপন্ন। তাছাড়া মুসলিম, খৃষ্টান ও বৌদ্ধ সংখ্যালঘুরাও বিপন্ন।

তবে রামচন্দ্রের দাসের খেলাটা কিন্তু বিজেপি এখনও খেলে নি। আমার খালি মনে হচ্ছে ভারত খুব ম্যাড়মেড়ে একটা দেশ। বহু সম্ভাবনা নিয়েও বিবর্ণ একটি দেশ। ভারত কোনোভাবে এগুতে পারছে না।

রেডিও তেহরান: বিজেপির এই বিজয়ের পর আরেকটা প্রশ্ন উঠেছে সেটা হলো- ভারতের জনগণ কি বেশি মাত্রায় ধর্মভিত্তিক রাজনীতি পছন্দ করছে? অনেকে এও বলছেন, মোদির বিজয়ের মধ্যদিয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদের বিজয় হলো। আপনি কি বলবেন?

কবির সুমন: আপনার এই প্রশ্নের উত্তরে আমি যদি পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে উদাহরণ দেই তাহলে দেখা যাবে এখানে হিন্দুয়ানী বিষয়টি প্রছন্নভাবে রয়েছে। ভারতে হিন্দু-বৌদ্ধই বেশি। পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা যে বাঙালীয়ানার সংস্কৃতির মধ্যে তারা কি অন্যান্য সম্প্রদায়ের কথা ভাবেন! অর্থাৎ মুসলমান বাঙালী ও খৃষ্টান বাঙালীদের কথা কি একজন হিন্দু বাঙালী কখনও ভাবেন! আমি মনে করি না হিন্দু বাঙালীরা অন্য কারো কথা ভাবেন।

তবে এখানে সবাই সাম্প্রদায়িক লোক সেকথাও আমি বলব না। ভারতের মুসলমানদের সংখ্যা- পাকিস্তানের মুসলমানদের চেয়েও বেশি। পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার মধ্যে শতকরা ২৮ থেকে ৩০ জন নাগরিক মুসলামন; তারা কিসে স্বস্তি পাবে সে ব্যাপারে সংখ্যাগুরুদের কোনো দিনই কোনো দৃষ্টি ছিল না। তবে বিজেপির বিরুদ্ধে সংগ্রামে কিন্তু অনেকেই অংশ নিয়েছিল। আর বিজেপি যদি সাম্প্রদায়িকতার নজির রাখতে শুরু করে তাহলে কিন্তু বিজেপির কপালে দুঃখ আছে।এটা কিন্তু খুব সোজা সাপটা বিষয়।

আরেকটা বিষয় বলতে চাই সেটি হচ্ছে- তারা অর্থাৎ বিজেপি ব্যাপারটিকে যতটা সহজ ভাবছে ব্যাপারটি ততো সহজ নয়। তবে ভারতের জনগণ অর্থনৈতিক সংকট থেকে মুক্তি পেতে যেমনভাবে একটা খড়কুটো আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করে- সেভাবে তারা বিজেপিকে আঁকড়ে ধরেছে। এখানে বিজেপির যদি সাম্প্রদায়িক অভিসন্ধি থাকে তবে সেটা ভুল। ভারতকে এভাবে দেখতে চাওয়াটা ভুল। আর এ বিষয়টি বিজেপির সবচেয়ে ভালোভাবে জানার কথা। ২০০৪ সালের যে নির্বাচন হয়েছিল তখন কোথায় গিয়েছিল বিজেপি।

আজ আবার বিজেপি ক্ষমতায় ফিরেছে ধর্মের সহায় হিসেবে কিন্তু নয়। তারা ক্ষমতায় এসেছেন অর্থনীতির ওপর ভর করে। আসলে বাঁচবে মামা কি খেলে। অর্থাৎ অর্থনৈতিক সাফল্য দিতে পারল না কংগ্রেস, বামপন্থীরা তো পারলই না-তারা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হলেন। তো কে পারবে সেটা দিতে! দেখা যাক বিজেপি পারে কি না! আর এই জায়গাটাতেই কিন্তু তারা ম্যাণ্ডেট পেয়েছে। পার্লামেন্টে আমার সিকিউরিটি যারা ছিলেন তাদের সঙ্গেও আমি কথা বলেছি তারা অত্যন্ত ব্যথিতভাবে বললেন যে কংগ্রেসের নীতির ভুলের জন্য বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। আর এ বিষয়টি নিয়ে হিন্দু মুসলিম সবাই আপসোস করেছে। তবে এই নিরঙ্কুশ বিজয়ের ফলে বিজেপি যদি মনে করে থাকে যে কেল্লা ফতে। না ভারতকে ওভাবে দেখলে খুব ভুল হবে।

রেডিও তেহরান: যে ‘অতিকাল্পনিক ধারণা’ নরেন্দ্র মোদীকে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে আজ হোক আর কাল তা ভেঙে পড়তে বাধ্য। এ মন্তব্য করেছে সি পি আই (এম)। এ কথার মাঝে আপনি কো কোনো যুক্তি দেখেন?

কবির সুমন: সিপিএম যেকথা বলেছে বিজেপিকে নিয়ে সে কথার মধ্যে অবশ্যই যুক্তি আছে। কারণ হচ্ছে ভারতের তরুণ তরুণীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাদের বাবা-মাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মতোই দিশেহারা। আর এই দিশেহারা মানুষেরা অনেকটা ডুবন্ত মানুষের মতো খড়কুটো পেলে সেটাকেই আঁকড়ে ধরে।

আর এক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদি মশাই-গুজরাটে তার কীর্তিটাকে ফুলিয়ে ফাপিয়ে দিনকে রাত করেছে এবং রাতকে দিন করেছে। যারা একটু খোঁজ খবর রাখেন তারা বিষয়টি জানেন যে গুজরাট মোটেও শাইনিং নয়।

তবে একথা সত্য যে গুজরাটিরা খুব উদ্যোগী ব্যবসায়ী। পৃথিবীর হিরার ব্যবসার বেশীরভাগটাই গুজরাটিদের। আপনারা যদি লন্ডনের পাতাল রেলের দিকে তাকান সেখানে দেখবেন ছোট ছোট বহু দোকানের মালিক গুজরাটি। তারা সেখান থেকে আয় করে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন। তাদের সেই পাঠানো টাকা তো গুজরাটের ব্যাঙ্কে জমা হচ্ছে। এরফলে গুজরাটের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। আর এসবের পেছনে কিন্তু নরেন্দ্র মোদীর কোনো হাত নেই। আমেরিকাতে গেলেও ঠিক একই চিত্র দেখতে পাবেন যে গুজরাটিরা সবজায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আর এসব তো নরেন্দ্র মোদী মশাই করেন নি। গুজরাটে বাইরে থেকে রোজগার করা টাকা আসছে। যার ফলে রাজ্যের অর্থনৈতিক অনেকটা পুষ্টি ঘটছে। কাজেই এখানে নরেন্দ্র মোদীর গুজরাট মডেলের বিষয়টি আসলে একটা অলীক স্বপ্ন মাত্র। মানুষ সেই অলীক স্বপ্নের দিকে ছুটছে। আমার তো মনে হয় বছর দুয়েকের মধ্যে মানুষের সেই স্বপ্ন ভেঙে যাবে।

রেডিও তেহরান: বিজেপির বিজয় নিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশেও চলছে নানা আলোচনা। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে বিজেপি বাংলাদেশ নিয়ে কি ধরনের নীতি অনুসরণ করে। আপনার কি মনে হয়..কংগ্রেস সরকারের নীতির চেয়ে ভিন্ন কোনো নীতি গ্রহণ করবে বিজেপি?

কবির সুমন: দেখুন আসলে বিজেপি প্রতিবেশী বাংলাদেশকে নিয়ে কংগ্রেসের নীতির চেয়ে ভিন্ন কোনো নীতি গ্রহণ করবে কি না তা এখনই বলা যাচ্ছে না। অনেক দিন আগে বিজেপির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। তার সময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবচেয়ে ভাল ছিল। এখন বিজেপির সরকার যদি বুদ্ধিমান হন তাহলে তারা ওই ক্ষেত্রটাকে ঘাটাবেন না। আমার ঠিক মনে হচ্ছে না এইমুহুর্তে তাদের ওইসব চিন্তা আছে। তাদের এইমুহুর্তে আসল কাজ হচ্ছে নিজেদের জায়গাটাকে ঠিক করা।

তারা এখনই বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের সঙ্গে কিছুটা ঝামেলা পাকাবে বা ঝামেলার জায়গাতে যাবে বলে আমার মনে হয় না। আর যদি তেমনটি হয় তাহলে মানুষ অতি সহজেই বুঝতে পারবে যে বিজেপি তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে এখন একটা যুদ্ধ পাকাচ্ছে বা অন্য দেশগুলোর সঙ্গে অশান্তি লাগিয়ে রাখছে। অর্থাৎ ২০০২ সালে যা হয়েছিল বা বাবরী মসজিদ ভাঙার সময় কুৎসিত যে ঘটনা ঘটেছিল সেই সব ঘটনার সঙ্গে আজকের ভারতের পার্থক্য আছে। তখনকার ভারত আর এখনকার ভারত এক নয়।

রেডিও তেহরান: বাংলাদেশে আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্ব পাচ্ছে তাহলো- তিস্তার পানিবণ্টন এবং সীমান্ত চুক্তি। আপনার কি মনে হয় এসব চুক্তি বাস্তবায়ন করতে এগিয়ে আসবে বিজেপি সরকার?

কবির সুমন: তিস্তার পানি বন্টন এবং সীমান্ত চুক্তির বিষয়টি নিয়েও এই মুহুর্তে আমি কিছু বলতে পারছি নে। তবে আমি এটুকু বলতে পারি যে বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানি বন্টন চুক্তিটি না হওয়ার পেছনে আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রমতী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিরোধীতাই দায়ি। আর সেটি ছিল মমতা বন্দোপধ্যায়ের একটি বড় ভুল। আমি সে সময় পশ্চিবঙ্গের পার্লামেন্টে ছিলাম। আমি তখন মুক্ত গলায় বলেছিলাম যে এটা মমতা বন্দোপধ্যায়ের একটা বড় ভুল। কেননা এটা ছিল ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ দিনের একটা সমঝোতার বিষয়। এ বিষয়ে সবরকম বোঝাপড়া হয়ে আছে কেবল চুক্তির বিষয়টি বাকি ছিল। মমতার বিরোধীতার কারণে চুক্তিটি হয়নি। আর এ চুক্তিটি না হওয়ায় তিনি কার উপকার করলেন? তিনি কি পশ্চিমবঙ্গের বা ভারতের কোনো উপকার করলেন না। আমার মনে হয় না বিজেপি সরকার সেদিকে যাবে।

রেডিও তেহরান: হিন্দুত্ববাদের যে তকমা বিজেপির সঙ্গে লেগে আছে অথচ আপনি যে বললেন তারা এখনও সেটা প্রকাশ করে নি। কিন্তু এই নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ২০০২ সালে গুজরাটে মুসলিম-বিরোধী দাঙ্গা হয়েছিল। এখন তো তিনি আরো বেশি ক্ষমতাশালী। অনেকের মনে প্রশ্ন আছে- ভারতে আবার মুসলিম-বিরোধী দাঙ্গা হয় কিনা।

কবির সুমন: বস্তুতপক্ষে শুধু তো মুসলিম বিরোধী না গুজরাটের সেই ঘটনাসহ আরো বেশ কিছু ঘটনা একটা পাগলামীর পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। হায়দাব্রাদের মেয়ে ইসরাত জাহানের দৃষ্টান্ত এখানে তুলে ধরা যায়। ইসরাত জাহান তার বন্ধুকে নিয়ে গুজরাটে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। তারা মুসলমান পুলিশ এই খবরটা পেয়ে পথের মধ্যে তাদেরকে একটা মেকি এনকাউন্টার করে। পুলিশ অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় ইসরাত জাহানকে খুন করে। তার মামলার শুনানীর সময় পুলিশ কর্মকর্তা আদালতে বলেন যে, তিনি ভেবেছিলেন এতে শ্রীযুক্ত নরেন্দ্র মোদীখুশি হবেন। দেখুন কি ভয়ঙ্কর একটা নির্মম পরিহাস। কাজেই ভারতে সংখ্যালঘুরা বরাবরই আক্রান্ত।

It's only fair to share...Share on FacebookTweet about this on TwitterGoogle+
Website designed and developed by Code Flavor

Facebook

Get the Facebook Likebox Slider Pro for WordPress